Categories
ফ্যাশন সৌন্দর্য্য হেলদ এন্ড ফিটনেস

চুল পড়ার কারন ও বন্ধ করার উপায়

নজরকাড়া স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল কার না পছন্দের।কিন্তু আজকাল যেদিকে কানপাতি সেদিকেই শুনা যায় চুল পড়ার সমস্যার কথা।নারী-পুরুষ প্রায় সবাইরি একই সমস্যা।এইতো সেদিন এক প্রতিবেশী বলে উনি আগে খুব সুন্দর বেনী করতে পারতেন।কিন্তু এখন চুল এতো বেশি পড়ছে বাঁধতেই কষ্ট হয়ে যায়।এই যেন এক ভীষন বিপদ।
চুল পড়ার নানান কারন রয়েছে।যেমন আমাদের রোজকার খাদ্য অভ্যাস,অতিরিক্ত ধুলাবালি,দুশ্চিন্তা,বিভিন্ন রোগ,অতিরিক্ত রং করা আরও অনেক কিছু।তবে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টা চুল পড়া স্বাভাবিক।প্রথমেই বলে নিচ্ছি আপনার যদি মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ে এবং কোনো প্রাকৃতিক উপায় ও রুটিন চেঞ্জ করেও কোন পরিবর্তন না হয় সেক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসক এর পরামর্শ নেয়া উচিত।তবে চুল কেন পড়ছে এই নিয়ে খুব বেশি ভেবে আরোও বেশি চুল পড়া বৃদ্ধি করবেন না।

চুল পড়া রোধে করনীয়-

চুলে তেল দেয়া- বর্তমানে মানুষ এতো ব্যাস্ত সময় পার করছে সময় করে চুলে তেল দেয়া হয় উঠেনা।তেল চুলের একটি অপরিহার্য উপাদান।নিয়মিত চুল তেল না দিলে চুল রুক্ষ ও দুর্বল হয়ে পড়ে।সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিনদিন চুলে নিয়ম করে তেল দেয়া উচিত।তেল দেয়ার একঘন্টা পর শেম্পু করে নিতে হবে।নারকেল তেল,ক্যাস্টার অয়েল,অলিভ অয়েল একসাথে মিক্স করে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

কন্ডিশনার এর ব্যবহার- নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হয়।চুল পড়া কমে আসে।এতে চুল সিল্কি ও শাইনি হয়।কন্ডিশনার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনার চুলের ধরন বুঝে কন্ডশিনার নিন।বিটরুট নির্যাস, অ্যাকুয়া, প্রো ভিটামিন বি-৫ সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

হেয়ার প্যাক- সপ্তাহে অন্তত দুইদিন চুলে হেয়ার প্যাক লাগান।এইক্ষেত্রে মেথি,দই,ডিম একসাথে মিক্স করে লাগানো যেতে পারে।এতে চুল পড়া যেমন বন্ধ হয় তেমনি নতুন চুল গজায় ও চুল দ্রুত লম্বা হয়।এছাড়া আপনার পছন্দ মতো যেকোন হেয়ার প্যাক লাগাতে পারেন।ইউটিউব এ নানা ধরনের হেয়ার প্যাক বানানোর উপায় পেয়ে যাবেন।


এছাড়া চুলের যত্নে বাড়িতে এলোভেরা জেল বানানোর উপায় জেনে নিন এখান থেকে।https://nouslife.com/?p=496#respond

হেয়ার কালার-আজকাল ফ্যাশনের মধ্যে চুলে রং করা ও কিছুদিন পর পর পাল্টানো একটা ট্রেন্ড।কিন্তূ অতিরিক্ত হেয়ার কালারে চুল যেমন রুক্ষ ও ফ্যাকাশে হয় তেমনি চুল পড়া অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।চুল পড়া বন্ধ করতে ক্যামিক্যাল যুক্ত হেয়ার কালার ব্যাবহার না করে প্রাকৃতিক উপাইয়ে চুল কালার করুন।যেমন বিট,হেনা প্যাক ও চায়ের পাতার সাহায্য চুলে রং করা যায়।

চুলে হিট দেয়া- ব্যাস্ত জীবনে খুব দ্রুত চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যাবহার,চুলে নানারকম স্টাইল করতে চুলে হিট দেয়া হয়।এতে যেমনি চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয় তেমনি চুল পাতলা হয়ে যায়,চুল হারায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।তাই চুলে হিট দেয়া বন্ধ করতে হবে।

শেম্পু- আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শেম্পু কিনতে হবে।একই শেম্পু সবাইর চুলে মানাবে এমনটা না।চুলে শেম্পু ব্যাবহার এ আরো সতর্ক হতে হবে।কোনো শেম্পুতে যদি চুল বেশি পরে সেটি চেঞ্জ করতে হবে।এছাড়া ক্যামিক্যাল যুক্ত শেম্পু ব্যাবহার না করে মাইল্ড শেম্পু ব্যাবহার করা চুলের জন্য ভালো।সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিনদিন শেম্পু ব্যাবহার করতে হবে।চুলের গোড়া যত পরিষ্কার থাকবে তত চুল শক্ত ও মজবুত হবে।

পানি- রোজ নিয়ম করে পানি খাওয়া কিছুটা কষ্টের।দৈনিক ৩/৪ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন।এতে শরীরের টক্সিন বেরিয়ে গিয়ে শরীর দূষণমুক্ত হয়।তাই চুলের যত্নে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে।এতে চুল পড়া কমবে পাশাপাশি আরো অনেক উপকার হবে।যেমন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা কমে আসবে

ঘুম- একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক ৭/৮ ঘন্টা নিয়ম করে ঘুমানো উচিত।ঘুম কম হলে চোখের নিচে কালি পড়া,চুল পড়া বৃদ্ধি পাওয়া সহ আরো নানান সমস্যা হয়।এছাড়া অতিরিক্ত স্টেসমুক্ত থাকতে ঘুম অত্যন্ত জরুরি।প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া উচিত।

সুতরাং চুল পড়ার নানা কারণ ও সমাধান জানা হলো।এইবার চুল পড়া কমানোর উপায় আপনার হাতে।

Categories
সৌন্দর্য্য

বাড়িতে অ্যালোভেরা জেল তৈরির নিয়ম

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী প্রায় সবার পরিচিত একটি উদ্ভিদ।অধিকাংশের বাড়িতে এই গাছ লাগানো থাকে।এই অ্যালোভেরার রয়েছে বহু গুনাগুন।আদিকাল থেকে রূপচর্চা থেকে শুরু করে নানান কাজে এর ব্যবহার হয়ে আসছে।এটি পেটের পীড়া,চুলের যত্ন,ত্বকের যত্ন সহ আরো অনেক কাজে ব্যবহার হয়।এর উপকারিতা বলে শেষ হওয়ার নয়।তবে আজ আমরা সেসব দিকে না গিয়ে এই অ্যালোভেরা দিয়ে কি করে জেল তৈরি করা যায় সেই বিষয়ে জানবো।

সৌন্দর্য হলো সত্যের হাসি যখন মেয়েটি তার নিজের চেহারা নিখুঁত কোন আয়নায় লক্ষ্য করে।– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


বাজারে অনেক ধরনের অ্যালোভেরা জেল কিনতে পাওয়া যায়।তবে সেসব এ থাকে নানান ধরনের রাসায়নিক পদার্থ।যা আমাদের ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।কেমন হয় যদি বাড়িতে বসে নির্ভেজাল অ্যালোভেরা জেল বানানো যায়। যেটি আপনি সারামাস ধরে আপনার ত্বকের যত্নে নিশ্চিন্তে ব্যাবহার করতে পারবেন ।তাহলে দেখে নেয়া যাক কি করে আমরা বাড়িতে নির্ভেজাল অ্যালোভেরা জেল বানিয়ে নিতে পারি।

অ্যালোভেরা জেল তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন-


১. ছুরি
২. কাঁচের পাত্র
৩. ফ্রেশ অ্যালোভেরা পাতা
৪. মিক্সিং বোল
৫. ভিটামিন ই ক্যাপসুলন
৬. গোলাপজল
৭.চামচ

বানানোর পদ্ধতি-


প্রথমে একটি ফ্রেশ অ্যালোভেরা পাতা কেটে নিন গাছ থেকে।১/২ ঘন্টা রেখে দিন এর ভিতর থেকে হলুদ কষ গুলো বের হতে।এইগুলো আমাদের স্কিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।এরপর ভালো করে পাতাটাকে ধুঁয়ে নিন।পাতার দুইপাশ থেকে ছুরির সাহায্য কেটে নিন।উপরের চামড়াটাও পাতলা করে কেটে নিন।একটা চামচের সাহায্য জেলটুকু ছাড়িয়ে নিন।সবটুকু জেল একসাথে বাল্যান্ডারে ব্লেন্ড করে নিন।বাসায় বাল্যান্ডার না থাকলে ছুরি বা চামচের সাহায্য ও পাতলা জেল করে নিতে পারেন।তবে সেটি কিছুটা কষ্টসাধ্য বটে।ব্লেন্ড করা শেষ মীক্সিং বোলে নিয়ে এর সাথে পরিমান মতো ভিটামিন ই ক্যাপসুল ও গোলাপ জল মেশান।ভালোভাবে মিক্স করে একটা কাঁচের পাত্রে নিন।এরপর এটি তিনদিনের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন সেট হতে।ব্যাস রেডি হয়ে গেলো বাসায় তৈরি খাঁটি অ্যালোভেরা জেল।এইবার এটি আপনার প্রয়োজন মতো রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করুন।এটি আপনি ফ্রিজে রেখে প্রায় একমাস ব্যাবহার করতে পারবেন।

এলোভেরা জেল অনেকে অনেক পদ্ধতিতে করলেও আমার কাছে এটি সহজ ও ঝামেলাবিহীন মনে হয়।সময়ও অনেক কম লাগে।তাই এখন থেকে আপনিও একবার এই প্রসেসে বানিয়ে দেখুন।আশাকরি নিরাশ হবেন না।